Blog · Social Media Care
খাতা-কলমের দিন শেষ! ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাড়ি ভাড়া ও ভাড়াটিয়াদের হিসাব রাখার সহজ সমাধান
প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখ মানেই প্রতিটি বাড়ির মালিক বা ল্যান্ডলর্ডের জন্য এক ব্যস্ত সময়।
কার বিদ্যুৎ বিল বাকি, কার পানির বিল দেওয়া হলো, কোন ভাড়াটিয়া চলতি মাসের ভাড়া দিলেন আর কার কত টাকা বকেয়া রইল—এসব হিসাব মেলাতে গিয়ে খাতা-কলম আর ক্যালকুলেটর নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়।
বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে বাড়ি বা ফ্ল্যাট পরিচালনা করা কেবল ভাড়া নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
এর সাথে জড়িয়ে থাকে নানা রকমের আনুষঙ্গিক খরচ, দারোয়ান বা কেয়ারটেকারের বেতন, প্লাম্বার বা ইলেকট্রিশিয়ানের বিল এবং সরকারি বিভিন্ন ইউটিলিটি বিলের হিসাব।
একই সাথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভাড়াটিয়াদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ছবি এবং চুক্তিপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সযত্নে সংরক্ষণ করতে হয়।
এই পুরো জটিল প্রক্রিয়াটিকে সহজ এবং ডিজিটাল করতে আমরা নিয়ে এসেছি একটি আধুনিক ও সহজ সমাধান— “বাড়িওয়ালা অ্যাপ” (Bariwala App) ।
ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বাড়ি ভাড়ার হিসাব রাখার প্রধান সমস্যাগুলো কী কী?
১.
হিসাবের ভুলভ্রান্তি ও ডায়েরি হারিয়ে যাওয়া: কাগজের ডায়েরি বা খাতায় হিসাব রাখলে তা যেকোনো সময় নষ্ট বা হারিয়ে যেতে পারে।
এছাড়া অনেক সময় যোগ-বিয়োগের ভুলের কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
২.
বকেয়া ভাড়ার সঠিক ট্র্যাকিং না থাকা: কোন ভাড়াটিয়া কত টাকা বকেয়া রেখেছেন বা কে কত টাকা অ্যাডভান্স (অগ্রিম) দিয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে মনে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
৩.
নথিপত্র হারানোর ঝুঁকি: ভাড়াটিয়াদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি বা চুক্তিপত্রের কাগজ ফাইলবন্দি করে রাখতে গিয়ে অনেক সময় খুঁজে পাওয়া যায় না।
৪.
অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ: ফ্ল্যাটের পানির পাম্প নষ্ট হওয়া, ইলেকট্রিক লাইনের সমস্যা বা লিফট মেরামতের পেছনে প্রতি মাসে কত খরচ হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব না থাকায় আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক সময় বেড়ে যায়।
“বাড়িওয়ালা অ্যাপ” কীভাবে আপনার জীবনকে সহজ করবে?
আমাদের এই অ্যাপটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশি বাড়ির মালিকদের দৈনন্দিন প্রয়োজনকে মাথায় রেখে।
এটি আপনার মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকে অত্যন্ত সহজে পরিচালনা করা যায়।
নিচে এর প্রধান কিছু ফিচার আলোচনা করা হলো: এখন আর ফাইলের পর ফাইল ঘেঁটে ভাড়াটিয়াদের তথ্য খুঁজতে হবে না।
অ্যাপে প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়ার নাম, মোবাইল নম্বর এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যা লিখে রাখা যাবে।
পাশাপাশি তাদের এনআইডি কার্ড ও ভাড়া চুক্তিপত্রের ছবি সরাসরি আপলোড করে আজীবনের জন্য সুরক্ষিত রাখা যাবে।
কোনো ভাড়াটিয়া অ্যাডভান্স বা সিকিউরিটি মানি জমা দিলে তা অ্যাপে আলাদাভাবে রেকর্ড করা থাকবে।
প্রতি মাসের শুরুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাড়া জেনারেট হবে।
ভাড়া পরিশোধ হওয়ার সাথে সাথে "Paid" এবং বাকি থাকলে তা "Due" বা বকেয়া হিসেবে দেখাবে।
একটি বাড়ি সচল রাখতে নানা রকমের খরচ হয়।
যেমন: দারোয়ান, ক্লিনার বা সিকিউরিটি গার্ডের বেতন।
কমন স্পেসের বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ও পানির বিল।
ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা মেকানিকের আকস্মিক সার্ভিস চার্জ।
অ্যাপের মাধ্যমে এই প্রতিটি খরচের হিসাব ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদাভাবে লিখে রাখা যাবে।
মাস শেষে অ্যাপ নিজেই আপনাকে জানাবে আপনার মোট কত টাকা আয় হলো এবং কত টাকা খরচ হলো।
আমাদের এই প্ল্যাটফর্মটি একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ (PWA)।
এর মানে হলো, আপনাকে গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে গিয়ে বড় ফাইল ডাউনলোড করতে হবে না।
আপনি আপনার মোবাইল ব্রাউজার থেকেই এক ক্লিকে এটিকে ফোনের হোম স্ক্রিনে অ্যাপ হিসেবে যুক্ত করে নিতে পারবেন।
এটি অত্যন্ত লাইটওয়েট এবং অফলাইনেও আংশিক কাজ করতে সক্ষম।
অ্যাপে লগইন করলেই আপনি একটি দৃষ্টিনন্দন ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন।
সেখানে গ্রাফ এবং চার্টের মাধ্যমে এক নজরে আপনার পুরো ভবনের আর্থিক চিত্র ফুটে উঠবে।
কত টাকা কালেকশন হলো আর কত টাকা খরচ হলো, তা দেখতে আপনাকে কোনো বাড়তি হিসাব করতে হবে না।
সহজ সাবস্ক্রিপশন, কিস্তি সুবিধা এবং অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তা বাড়ির মালিকদের সুবিধার্থে আমরা এই অ্যাপের পেমেন্ট ও ব্যবহারের প্রক্রিয়াটিকে করেছি অত্যন্ত সহজ ও নমনীয়।
মাসিক সাবস্ক্রিপশন ও কিস্তি (Installment) সুবিধা: এই অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য আপনাকে একবারে বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করতে হবে না।