Blog · Social Media Care

এসইও সার্ভিস বাংলাদেশ: কাজ কী, কীভাবে ভালো এজেন্সি চিনবেন

এসইও সার্ভিস বাংলাদেশে নেওয়ার আগে জানুন আসলে কী কী কাজ হয়, কত দিনে ফল আসে, কোন প্রতিশ্রুতি শুনলে সাবধান হবেন আর কীভাবে শুরু করবেন।

অনেকে আমাদের বলেন, "ভাই, ওয়েবসাইট তো বানালাম, কিন্তু গুগলে নিজের ব্যবসার নাম লিখলেও খুঁজে পাই না।" কথাটা খুব পরিচিত।

ওয়েবসাইট বানানো মানে দোকান খোলা, আর এসইও মানে সেই দোকানের রাস্তায় সাইনবোর্ড লাগানো, যাতে মানুষ খুঁজে পায়।

এই লেখায় সহজ ভাষায় বলব এসইও সার্ভিস বাংলাদেশে নিলে আসলে কী কী কাজ হওয়া উচিত, কত সময় লাগে, আর কোন কথা শুনলে সাবধান হবেন।

এসইও আসলে কী, আর কেন আপনার ব্যবসার দরকার এসইও (SEO, Search Engine Optimization) হলো এমন কিছু কাজ, যাতে কেউ গুগলে আপনার সার্ভিস বা পণ্য খুঁজলে আপনার ওয়েবসাইট ওপরের দিকে আসে।

যেমন কেউ লিখলেন "চট্টগ্রামে ডেন্টাল ক্লিনিক" বা "স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার"।

যিনি এভাবে খুঁজছেন, তিনি আসলে কিনতে বা সেবা নিতে প্রস্তুত।

ফেসবুক বুস্টে আপনি মানুষের সামনে যান; এসইওতে মানুষ নিজেই আপনাকে খুঁজে আসে।

আর বিজ্ঞাপন বন্ধ করলে ভিজিটর বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ভালোভাবে র‍্যাংক করা একটা পেজ মাসের পর মাস ভিজিটর আনতে পারে।

তাই যারা লম্বা সময় ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য এসইও একটা বিনিয়োগ।

একটা ভালো এসইও সার্ভিসে কী কী কাজ থাকে এসইও মানে শুধু কিছু কিওয়ার্ড বসানো না।

একটা ঠিকঠাক এসইও সার্ভিসে সাধারণত এই কাজগুলো থাকে: ১.

ওয়েবসাইট অডিট: সাইট কত দ্রুত খোলে, মোবাইলে ঠিক দেখায় কি না, ভাঙা লিংক আছে কি না, গুগল পেজগুলো ইনডেক্স করছে কি না।

অনেক সময় দেখা যায় সাইটের পেজ গুগলে ঢোকেইনি, তাই র‍্যাংকের প্রশ্নই আসে না।

২.

কিওয়ার্ড রিসার্চ: আপনার কাস্টমার আসলে কী লিখে খোঁজেন, সেটা বের করা।

বাংলায় খোঁজেন নাকি ইংরেজিতে, "দাম" লিখে খোঁজেন নাকি "সার্ভিস" লিখে।

এটা ভুল হলে বাকি সব কাজ ভুল দিকে যায়।

৩.

অন-পেজ এসইও: প্রতিটা পেজের টাইটেল, মেটা ডিসক্রিপশন, হেডিং, ছবির নাম ও alt টেক্সট, আর পেজগুলোর মধ্যে ইন্টারনাল লিংক ঠিক করা।

৪.

টেকনিক্যাল এসইও: সাইটম্যাপ, robots.txt, পেজের গতি, HTTPS, আর গুগল সার্চ কনসোলে সমস্যা থাকলে সমাধান।

৫.

কনটেন্ট: কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর দেয় এমন ব্লগ ও সার্ভিস পেজ লেখা।

আপনি এখন যে লেখাটা পড়ছেন, সেটাও এই কাজেরই অংশ।

৬.

লোকাল এসইও: গুগল বিজনেস প্রোফাইল (ম্যাপে আপনার দোকান বা অফিস) ঠিকমতো সাজানো, যাতে "near me" বা এলাকার নাম দিয়ে খুঁজলে আপনি আসেন।

৭.

অফ-পেজ এসইও: অন্য বিশ্বাসযোগ্য সাইটে আপনার সাইটের উল্লেখ বা লিংক পাওয়া, সৎ উপায়ে।

৮.

রিপোর্ট: প্রতি মাসে কী কাজ হলো আর কোন কিওয়ার্ডে অবস্থান কেমন, সেটা সহজ ভাষায় জানানো।

একটা জিনিস মনে রাখবেন: হ্যাক হওয়া সাইট কখনো ভালো র‍্যাংক ধরে রাখতে পারে না।

গুগল যদি সাইটে ক্ষতিকর কোড পায়, ওয়ার্নিং দেখায় আর ভিজিটর কমে যায়।

তাই এসইওর আগে সাইটটা নিরাপদ কি না, সেটা দেখা আমাদের প্রথম কাজের একটা।

কত দিনে ফল আসে?

সৎ উত্তর এসইও রাতারাতি হয় না।

নতুন সাইট বা যে কিওয়ার্ডে প্রতিযোগিতা বেশি, সেখানে সাধারণত কয়েক মাস লাগে।

কম প্রতিযোগিতার লোকাল কিওয়ার্ডে আগেই ভালো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

ঠিক কত দিনে কোন অবস্থানে যাবে, সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না, কারণ গুগলের হিসাব গুগলই জানে।

যে এজেন্সি কাজ শুরুর আগেই নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট র‍্যাংকের গ্যারান্টি দেয়, তাদের ব্যাপারে একটু ভেবে দেখুন।

যে প্রতিশ্রুতি শুনলে সাবধান হবেন "৭ দিনে গুগলের ১ নম্বরে তুলে দেব।" সাধারণত এটা বাস্তব না।